ভাবের বেড়াল
Wednesday, December 21, 2011 8:54:29 AM
ভাবের বেড়াল
রাত্রি পালক গুটিয়ে ওম হয়ে বসলে
শীতের দারুণ ঝঞ্ঝা কেঁপে কেঁপে
শীতলতম হয়ে আসে-
মৃত্যু, আহা
কি গভীরভাবেই সে না মৃত্যুর অনুরুপ হয়ে
ডানা মেলে আলতো চড়ে বসে
নাকে, চোখের পাতায়, আঙুলের গিরায় গিরায়-
টেলিভিশনে বার্গম্যানের মৃত্যু গোটাকয় মানুষের হাত ধরে ছন্দময় নৃত্য করে-
নাচের সমাপ্তি ঘটলে কোলে নতুন করে চাপটা টের পাই-
ভাবের অলস বেড়াল, তোর থেকে বুঝি আর নিস্তার নেই!
এই নিশাকালেও ওমের খোঁজে ঘুরে বেড়ায় এখান থেকে ওখানে
আর কোথাও সামান্যতম আদরের প্রশ্রয় পেলেই
গুটি গুটি উঠে চেপে বসা চাই।
কাঁহাতক আর শীতের কামড় সয়ে নরম চাদরের ভাঁজ গলিয়ে
তার আহ্লাদের সম্মান করা যায়!
তবু নরম লোমে তার কিছুক্ষণ বিলি কাটি,
আদরের আতিশয্যে তার শ্বদন্ত আঙুলে মৃদু সক্রিয় হয়ে উঠলে
কপালে কষে দিই বাস্তবের দু’এক চাটি-
তাতে তার গোঁসা হলেও নেমে যান না সহজে।
গরগর আহ্লাদে আরো প্রশ্রয়ের দাবি জানিয়ে
ক্রমাগত গা ঘষে চাদরের ওমে।
চোখ খুললে আবার ডিম্বাকার শূণ্যতা ভাসে-
মৃত্যু? সে তখন দেহযন্ত্রের নিষ্ক্রিয়ায় অথবা
দৈনন্দিন দূর্ভাগ্যে ঠাঁই নিয়েছে।
আর নতুন করে কি বলার আছে।
সবকিছু ঝেড়েঝুড়ে পূর্ণ চোখে তাকালে
আবার সব সাদামাটা সত্য হয়ে ওঠে-
ভাবের বিড়াল চলে গেছে নিঃশব্দে কখন
চাদরে তার অজস্র ইতঃস্তত লোম বিঁধে থাকে।
বিরক্তিসূচক শব্দ করে সারারাত চাদর থেকে ভাবের পশম তুলি।
ভাবের বেড়াল তখন আদুরে ডাক ছেড়ে হেঁটে বেড়ায়
চাঁদের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত।
------
১৯।১২।'১১
রামপুরা, ঢাকা
রাত্রি পালক গুটিয়ে ওম হয়ে বসলে
শীতের দারুণ ঝঞ্ঝা কেঁপে কেঁপে
শীতলতম হয়ে আসে-
মৃত্যু, আহা
কি গভীরভাবেই সে না মৃত্যুর অনুরুপ হয়ে
ডানা মেলে আলতো চড়ে বসে
নাকে, চোখের পাতায়, আঙুলের গিরায় গিরায়-
টেলিভিশনে বার্গম্যানের মৃত্যু গোটাকয় মানুষের হাত ধরে ছন্দময় নৃত্য করে-
নাচের সমাপ্তি ঘটলে কোলে নতুন করে চাপটা টের পাই-
ভাবের অলস বেড়াল, তোর থেকে বুঝি আর নিস্তার নেই!
এই নিশাকালেও ওমের খোঁজে ঘুরে বেড়ায় এখান থেকে ওখানে
আর কোথাও সামান্যতম আদরের প্রশ্রয় পেলেই
গুটি গুটি উঠে চেপে বসা চাই।
কাঁহাতক আর শীতের কামড় সয়ে নরম চাদরের ভাঁজ গলিয়ে
তার আহ্লাদের সম্মান করা যায়!
তবু নরম লোমে তার কিছুক্ষণ বিলি কাটি,
আদরের আতিশয্যে তার শ্বদন্ত আঙুলে মৃদু সক্রিয় হয়ে উঠলে
কপালে কষে দিই বাস্তবের দু’এক চাটি-
তাতে তার গোঁসা হলেও নেমে যান না সহজে।
গরগর আহ্লাদে আরো প্রশ্রয়ের দাবি জানিয়ে
ক্রমাগত গা ঘষে চাদরের ওমে।
চোখ খুললে আবার ডিম্বাকার শূণ্যতা ভাসে-
মৃত্যু? সে তখন দেহযন্ত্রের নিষ্ক্রিয়ায় অথবা
দৈনন্দিন দূর্ভাগ্যে ঠাঁই নিয়েছে।
আর নতুন করে কি বলার আছে।
সবকিছু ঝেড়েঝুড়ে পূর্ণ চোখে তাকালে
আবার সব সাদামাটা সত্য হয়ে ওঠে-
ভাবের বিড়াল চলে গেছে নিঃশব্দে কখন
চাদরে তার অজস্র ইতঃস্তত লোম বিঁধে থাকে।
বিরক্তিসূচক শব্দ করে সারারাত চাদর থেকে ভাবের পশম তুলি।
ভাবের বেড়াল তখন আদুরে ডাক ছেড়ে হেঁটে বেড়ায়
চাঁদের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত।
------
১৯।১২।'১১
রামপুরা, ঢাকা












